বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
স্পেনে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৩০, রেলপথের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ স্পেনে ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৪৬, উদ্ধার কার্যক্রম চলছে ঘূর্ণিঝড় আরনাবের প্রভাবে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব, সতর্কতা জারি সুদানের ন্যালে ড্রোন হামলায় ২১ নিহত, ৪০ আহত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: অতি প্রবল অবস্থায় পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরি চাপায় নিহত ৫, আহত ৪ সাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে ফ্রান্সে জাতিগত হামলায় নিহত ১, আহত ৫, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বাড়ছে জর্ডানে গির্জায় সন্ত্রাসী হামলায় ৭ জন নিহত, ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
আন্তর্জাতিক

৯/১১: বিশ্বের পরিবর্তনের ২৫ বছর পরের চিত্র

৯/১১ হামলার ২৫ বছর পর বিশ্বজুড়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

৯/১১: বিশ্বের পরিবর্তনের ২৫ বছর পরের চিত্র

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কের আকাশে চারটি বিমান আঘাত করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে। এই হামলায় প্রাণ হারান ২,৯৭৭ জন। কিন্তু ৯/১১-এর প্রভাব কেবল সেই দিনের মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ নেই।

৯/১১-এর পর বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, রাজনীতি, প্রযুক্তি, নজরদারি ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। হামলার ফলে প্রথমবারের মতো পৃথিবী একসঙ্গে ভয়াবহতার সাক্ষী হয়। প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ একযোগে হামলার দৃশ্য দেখে, যা তৈরি করে গ্লোবাল সাইমালটেনিয়িটির নতুন বাস্তবতা।

এদিন সাংবাদিকতার ধরনও পাল্টে যায়। পেশাদার ফটোগ্রাফারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ছবি তুলতে শুরু করেন। ব্লগ, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিবর্তন আজকের সাংবাদিকতা ও সংবাদ পরিবেশনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে, যা দীর্ঘ যুদ্ধের সূচনা করে। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়, কিন্তু ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যুদ্ধের খরচ ও হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা আমেরিকার প্রতি বিশ্বজুড়ে সহানুভূতির ক্ষয় ঘটায়।

নিরাপত্তার নামে নজরদারি বাড়ে। প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ব্যবস্থার বিস্তার আমেরিকান সমাজে নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেয়। আজ ফেসিয়াল রিকগনিশন, সার্ভেইলেন্স ক্যামেরা ও স্মার্টফোন আমাদের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তিশালী উপস্থিতি ২০১০ সালের আরব বসন্তে আন্দোলনকারীদের সংগঠিত হতে সাহায্য করে। তবে প্রযুক্তির এই শক্তি সরকারের নজরদারিতেও ব্যবহৃত হয়।

বর্তমান সময়ে, ডিপফেক ও এআই-তৈরি ভুয়া খবরের কারণে সত্যতা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ৯/১১ আমাদের এমন একটি পৃথিবীর দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে আমরা আরও বেশি কানেকটেড এবং বিভ্রান্ত।

২৫ বছর পর, ৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার নাম নয়, এটি একটি ‘ওয়াটারশেড মোমেন্ট’। এই ঘটনার পর আমরা যে পৃথিবী তৈরি করেছি, সেটি কি সত্যিই আগের চেয়ে নিরাপদ? নাকি আমরা কেবল ভয়কে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার প্রযুক্তিভিত্তিক একটি মাধ্যম তৈরি করেছি?

বিজ্ঞাপন