২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্কের আকাশে চারটি বিমান আঘাত করে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে। এই হামলায় প্রাণ হারান ২,৯৭৭ জন। কিন্তু ৯/১১-এর প্রভাব কেবল সেই দিনের মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ নেই।
৯/১১-এর পর বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, রাজনীতি, প্রযুক্তি, নজরদারি ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। হামলার ফলে প্রথমবারের মতো পৃথিবী একসঙ্গে ভয়াবহতার সাক্ষী হয়। প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ একযোগে হামলার দৃশ্য দেখে, যা তৈরি করে গ্লোবাল সাইমালটেনিয়িটির নতুন বাস্তবতা।
এদিন সাংবাদিকতার ধরনও পাল্টে যায়। পেশাদার ফটোগ্রাফারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ছবি তুলতে শুরু করেন। ব্লগ, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিবর্তন আজকের সাংবাদিকতা ও সংবাদ পরিবেশনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে, যা দীর্ঘ যুদ্ধের সূচনা করে। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়, কিন্তু ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যুদ্ধের খরচ ও হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা আমেরিকার প্রতি বিশ্বজুড়ে সহানুভূতির ক্ষয় ঘটায়।
নিরাপত্তার নামে নজরদারি বাড়ে। প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ব্যবস্থার বিস্তার আমেরিকান সমাজে নিরাপত্তা বনাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেয়। আজ ফেসিয়াল রিকগনিশন, সার্ভেইলেন্স ক্যামেরা ও স্মার্টফোন আমাদের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তিশালী উপস্থিতি ২০১০ সালের আরব বসন্তে আন্দোলনকারীদের সংগঠিত হতে সাহায্য করে। তবে প্রযুক্তির এই শক্তি সরকারের নজরদারিতেও ব্যবহৃত হয়।
বর্তমান সময়ে, ডিপফেক ও এআই-তৈরি ভুয়া খবরের কারণে সত্যতা নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ৯/১১ আমাদের এমন একটি পৃথিবীর দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে আমরা আরও বেশি কানেকটেড এবং বিভ্রান্ত।
২৫ বছর পর, ৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার নাম নয়, এটি একটি ‘ওয়াটারশেড মোমেন্ট’। এই ঘটনার পর আমরা যে পৃথিবী তৈরি করেছি, সেটি কি সত্যিই আগের চেয়ে নিরাপদ? নাকি আমরা কেবল ভয়কে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার প্রযুক্তিভিত্তিক একটি মাধ্যম তৈরি করেছি?