পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নদীর তীরে ঝুঁকিতে থাকা কবরস্থান থেকে বাবা-মা ও স্বজনদের মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে হাজিরহাট এলাকার সড়কের একটি বড় অংশে ভাঙন শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে সড়কের একটি অংশ তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের আতঙ্কে রাতভর ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ভাঙন প্রতিরোধ, সড়ক ও বেড়িবাঁধ রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। হাজিরহাট লঞ্চঘাটসংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সড়ক রক্ষায় প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত পেরিয়ে সকাল হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি।
সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা স্পিডবোটে করে ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে সমীক্ষা চালান। গত কয়েক দিনের ভাঙনে সড়কের অংশ, বেড়িবাঁধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিওব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকায় হাজিরহাট জামে মসজিদ, হাজিরহাট বাজার ও হাজিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের বাকি অংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।