দেশের অন্তত চারটি জেলায় নদী ভাঙনের ফলে ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নদী এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা অভিযোগ করছেন যে, ভাঙন ঠেকাতে বহু আশ্বাসের পরও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারায় শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ইতোমধ্যে কয়েকশ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। খোকসা শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত। এক নারী বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে থাকি। কখন নদী এসে সব ভেঙে নেয়।’
নেত্রকোণার সোমেশ্বরী, কংস, ধনুসহ নদ-নদীর অন্তত ৪৫টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। জেলার ২৫টি স্থানে জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও নদীর আগ্রাসন ঠেকানো যাচ্ছে না। এক বাসিন্দা বলেন, ‘এ বছরটা গেলে মনে হয় বাজারের আর কিছু থাকবে না।’
শেরপুর সদরের ৬ ও ৭ নম্বর চরের বাসিন্দারা দশানি ও ব্রক্ষপুত্র নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভাঙন ঠেকাতে মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এক বৃদ্ধ বলেন, ‘আমার বাড়ির অল্প আরেকটু বাকি আছে। সবই ভেঙ্গে গেছে।’
বরগুনার পায়রা, বিষখালী, আন্ধারমানিক ও বলেশ্বর নদীর অন্তত ৩৩টি এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন চলছে। পটুয়াখালীতে পায়রা নদীর ভাঙনে বসতঘর ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। স্থানীয় এক নারী জানান, ‘আমাদের বাড়ি নদী থেকে অনেক দূরে ছিল। তারপরেও নদীতে ভেঙে নিয়েছে।’
স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, ‘বাঁধ নির্মাণ এবং স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।’
স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন।