দেশের বিভিন্ন জেলায় নদী ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘদিনের আশ্বাস সত্ত্বেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারায় পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। স্থানীয় নারীরা জানান, 'কখন নদী ভাঙনে সবকিছু শেষ হয়ে যায়, আমরা আছি সেই ভয়ে।'
নেত্রকোণার সোমেশ্বরী, কংস ও ধনুসহ নদ-নদীর অন্তত ৪৫টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও নদীর আগ্রাসন থামানো যাচ্ছে না। স্থানীয়রা জানান, 'এই বছরটা গেলে বাজারে আর কিছু থাকবে না।'
শেরপুর সদরের ৬ ও ৭ নম্বর চরের বাসিন্দারা নদী ভাঙনের শিকার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভাঙন রোধে মন্ত্রণালয় থেকে এখনও কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালীতে পায়রা নদীর ভাঙনে বসতঘর ও ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, 'আমাদের বাড়ি অনেক দূরে ছিল, কিন্তু নদীতে সব ভেঙে গেছে।'
পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, 'বাধ নির্মাণের জন্য ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি সম্পন্ন করা হয়েছে।'
স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, বলছেন, 'শুধু আশ্বাস নয়, আমাদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।'