রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি। কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’
রাষ্ট্রপতি জানান, শহিদ ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘এ দেশে যেন আর কোনোদিন এই ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ যেন না ঘটে।’
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমসহ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি জাদুঘরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চিত্র অবলোকন করেন। তিনি শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘর ঘুরে দেখেন এবং সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার এবং নির্যাতন সামগ্রীর সেকশনগুলো ঘুরে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সকলের দায়িত্ব।’
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল শহিদদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন।