সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত মানুষের দাফন সম্পন্ন

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০০ জনের দেহাবশেষ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকৃত মানুষের দাফন সম্পন্ন

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১০০ জনের দেহাবশেষ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬০ জন শিশু রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযানে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর নিচে এখনও হাজারো মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে রয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গাজার জেইতুন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ স্বজনেরা কেন্দ্রীয় গাজা সিটির আল-মামাদানি কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাদের দাফন ও জানাজার আয়োজন করা হয়। পরিবারের সদস্য ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ করেছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এসব বাড়িঘর ধ্বংস হয়। দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের দেহাবশেষ উদ্ধার করে একটি নির্দিষ্ট কবরস্থানে দাফন করার সুযোগ পেয়েছেন পরিবারগুলো। নিহতদের মধ্যে মালাকা পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, এই পরিবারটি ৫৫ জন সদস্যকে হারিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বজনদের একটি 'পরিচিত ও যথাযথ কবরস্থানে' দাফন করার সুযোগ পাওয়ার জন্য পরিবারগুলো দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে। তবে গাজার সব পরিবার এই সুযোগ পাচ্ছে না। যুদ্ধের সময় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী কবরস্থান ধ্বংস ও খুঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে, ফলে অনেক পরিবার তাদের নিহত স্বজনদের মরদেহ যথাযথভাবে দাফন করতে পারেনি।

উদ্ধার করা দেহাবশেষগুলো কাফনে মোড়ানো থাকলেও অনেকগুলোই ছিল পুরো মরদেহ নয়, বরং শরীরের বিভিন্ন অংশ বা হাড়ের টুকরো। আল জাজিরার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের কারণে উদ্ধার ও দাফনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে। গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি মানবিক সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু পরিবার এখনও জানে না, তাদের নিখোঁজ স্বজনদের কী পরিণতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন