কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রী বহনকারী একটি প্রাইভেট কার সড়কে আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকার কনের বাড়ি থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীদের গাড়ি গাবতলী বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন যুবক গাড়ি থামিয়ে মিষ্টির টাকা দাবি করে। এ নিয়ে বরপক্ষের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়াছুড়িতে বর মো. হানিফ, তার বাবা হবি মিয়াসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বরপক্ষের হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, ধীতপুর বড়বাড়ির কাজলের ভাই-ভাতিজারা বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা দাবি করেছিলেন। এ নিয়ে প্রথমে বাগবিতণ্ডা ও পরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, ধীতপুর বড়বাড়ির মোহাম্মদ কাজল বলেন, বরযাত্রীর গাড়ির কারণে বাজারে যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় একটি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে বরপক্ষের কথা-কাটাকাটি হলে স্থানীয় লোকজন তা থামাতে যান। তখনই মারামারি বাধে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।