মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত প্রকাশিত হয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, হুজুগে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়া ঠিক হবে না, অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, এতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সোমবার সকালে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পেলেও, বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে। তবে চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত কিনা, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
রাজধানীতে আয়োজিত কৌশলগত জাতীয় নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশ সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রতিবেশীদের ভাবনা নয়, দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান মন্তব্য করেন, ‘প্রস্তুতি নিয়ে, রাজনৈতিক সচেতনতা নিয়ে জিনিসটা করলে বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে।’
নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসান নাসির বলেন, ‘আমার কিছু বন্ধুভাবাপন্ন দেশ দরকার, যারা আমার বিপদে পাশে থাকবে। এজন্যই এই জোটে যোগদানের পজিটিভ দিক নিয়ে আমি বলছি।’
অন্যদিকে, চুক্তিতে যোগদানের বিরোধিতা করে অনেকে বলেন, জাতিসংঘের দুর্বলতার কারণে মক্কা চুক্তির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘এটা ভাতে শেখাচ্ছে কিনা, যে এটা ন্যাটোর ছায়া জোট কিনা।’
সাবেক কুটনীতিক সাকিব আলী জানান, ‘এখন এটা একটা হাইপ উঠিয়ে দিলাম, হুজুগ উঠিয়ে দিলাম যে, আমরা এতে চলে যাব। আমাদের সমস্ত সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আমরা সেই হুজুগে আমাদের মেতে ওঠা উচিত নয়।’ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ৭ আগস্ট ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।