দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত ছয় মাসে কেজি দরে ৮০ টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সুগন্ধি চাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা জানান, রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার কারণে এই দাম বৃদ্ধি ঘটেছে।
তবে রেস্তোরাঁ মালিকদের অভিযোগ, বাজারে সুগন্ধি চালের ঘাটতি নেই, বরং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কারসাজির কারণে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সুগন্ধি চালের দাম ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা সুগন্ধি চালের দাম ১৯০ থেকে ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, এবং প্যাকেটজাত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম ২৩০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই বাজারে দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার তদারকির অভাব রয়েছে। একজন ক্রেতা বলেন, 'কয়েকটি কোম্পানি ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় চাল বিক্রি করছে। কোনো তদারকি নেই।'
চাল বিক্রির চড়া দাম হোটেল ও রেস্তোরাঁর ব্যবসায়ও প্রভাব ফেলেছে। পোলাও ও বিরিয়ানির দাম বেড়েছে এবং বিক্রি কমেছে। হোটেল মালিকরা অভিযোগ করেছেন, কিছু করপোরেট গ্রুপ চাল মজুত করে দাম বাড়াচ্ছে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, 'বড় ব্যবসায়ীরা পোলাওয়ের চাল সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে।'
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, 'এটি পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের কারসাজি। দেশে চালের ঘাটতি নেই।' রপ্তানিকারকরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দাবি করেছেন যে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও বেড়েছে। এসিআই এগ্রিবিজনেসের প্রেসিডেন্ট এফ এইচ আনসারী বলেন, 'দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়েছে এবং সিন্ডিকেটের কাজ করার সুযোগ নেই।'
প্রতি বছর সুগন্ধি চালের উৎপাদন ১৮ থেকে ২০ লাখ টন হয়, এবং গড়ে প্রতি বছর ১০ হাজার টন রপ্তানি হয়।