সোমবার, কক্সবাজারে শতশত রোহিঙ্গা শরণার্থী একত্রিত হয়ে মিয়ানমারে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার নবম বার্ষিকীতে ন্যায়বিচার এবং তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবি করেন।
২০১৭ সালের পর থেকে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছেন, যেখানে জীবনযাত্রার পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাচ্ছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ এখনও অনিশ্চিত।
২০২১ সালের হিসাবে, মিয়ানমারে প্রায় ১২০,০০০ রোহিঙ্গা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাদেরকে “বিশ্বের সবচেয়ে বৈষম্যভোগী জনগণের মধ্যে একটি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৯৮২ সাল থেকে মিয়ানমারে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগণ।
মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখছে এবং ২০১৪ সালের জাতীয় জনশুমারিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেনি। রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে, যা বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত।
২০১৭ সালের আগস্টে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একটি সহিংস অভিযানে ৭০০,০০০ এরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সময়ে অন্তত ২০০টি রোহিঙ্গা গ্রাম ধ্বংস করা হয় এবং প্রায় ১৩,০০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়।
বর্তমানে, বাংলাদেশে প্রায় ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই নারী এবং শিশু। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কুতুপালং এবং নায়াপাড়া অঞ্চলে তারা শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন।
রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন মিয়ানমারকে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে বাধা না দেওয়ার জন্য চাপ দিতে। ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নায় সান লুইন বলেন, “নয় বছর পার হয়েছে, কিন্তু ন্যায়বিচার এখনও বিলম্বিত। আমাদের দাবি হচ্ছে নিরাপদভাবে বাড়িতে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”