ইরান সফরে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সোমবার তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেন।
মুনিরের এই সফরটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুনিরের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হবে ইরানের সামরিক নেতাদের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাজি করানো।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সম্প্রতি বলেন, "যখন আমরা শক্তির অবস্থানে আছি, তখন যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।" অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর-জেনারেল আলি আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুতির কথা জানান।
মুনিরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি সম্ভবত জেনারেল মোহসেন রেজায়ির সাথে ছিল, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেইয়ের প্রতিনিধি। রেজাই সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করেন।
মুনিরের সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপের কয়েকদিন পর হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প পাকিস্তানকে ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রভাব বিস্তারের অনুরোধ করেছিলেন।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সফরকালে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে "বিস্তৃত আলোচনা" হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি সফরটিকে "অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ" বলে অভিহিত করেছেন। তবে, গত এপ্রিলে নকভির তেহরান সফরগুলো তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ইরানের সামরিক নেতৃত্বই যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। মুনিরের সামরিক পরিচয় তাকে ঐতিহ্যবাহী কূটনীতিকদের তুলনায় আলোচনায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে।