ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাসযাত্রীদের ডাবের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৪ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে দুলাল হাওলাদার এবং ২৫ আগস্ট মাগুরা সদর এলাকা থেকে মো. তিলাম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুলাল হাওলাদার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার কাজিরকান্দা গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে এবং মো. তিলাম খান মাগুরা সদর উপজেলার বগিয়া গ্রামের হাসেম খানের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৯ জুন মুক্তা রানী ভৌমিক যশোর থেকে শাপলা পরিবহনের একটি বাসে কোটচাঁদপুরে ফিরছিলেন।
কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের এলাঙ্গী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় আসামিরা ডাবের পানির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে তাকে খাওয়ান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে মুক্তার কাছ থেকে প্রায় তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের একটি হার, একটি আংটি ও এক জোড়া হাতের চুরি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করা হয়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন এলাঙ্গী বাজার এলাকায় বাসটি থামিয়ে দুইজনকে আটক করেন, তবে আরও দুই থেকে তিনজন পালিয়ে যায়। কোটচাঁদপুর থানায় দণ্ডবিধির ৩২৮/৩৭৯/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারী এসআই অমিত কুমার সাহা ঘটনার পর থেকে একাধিক সোর্স নিয়োগের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালান।
পুলিশ সুপার, ঝিনাইদহের নির্দেশনায় এবং কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ রহমানের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. আজাদ রহমান জানান, মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।