বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যান কিছুটা স্বস্তির হলেও নতুন বিনিয়োগের সংকট এখনও কাটেনি। ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে।
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়ে ১৭৭ কোটি ডলার হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১২৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে নতুন মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগ মাত্র ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়েছে, যা পুনঃবিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “দেশি বিনিয়োগকারীদের পর্যবেক্ষণ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছেন না।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ ৭০ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের জন্য অপরিহার্য।
বিশ্বব্যাংকও বিনিয়োগের জন্য জ্বালানি সংকট, আমলাতান্ত্রিক ও করসংক্রান্ত জটিলতা এবং দুর্নীতিকে দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে বিবেচনায় রাখেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগের সংকট শুধু অর্থনীতির নয়, এটি ভূ-রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার বিষয়ও। দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ এবং সুরক্ষা প্রয়োজন।