নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে ও মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের এই সংঘর্ষ ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান সিফাত, সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হাসান। জানা যায়, সোমবার রাত ২টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
বাগ্বিতণ্ডা পরবর্তী সময়ে সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং ভাষাশহীদ আবদুস সালাম হলে ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষের সময় আহতদের মধ্যে দুজনকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দৈনিক মানবজমিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকেও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত বলেন, “সিট নিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় বাগবিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা অন্যায়ভাবে আমার ওপর হামলা চালায়।”
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসান বলেন, “এটি সুস্পষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “এটি সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যকার ঝামেলা। কোনো পলিটিক্যাল বিষয় নয়।”
এ ঘটনায় তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে নোবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “এ ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।”