নোয়াখালী জেলার মাইজদী বাজারে ২০১৬ সালে সংঘটিত তিন বন্ধুকে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাফাক্কার হোসেন মো. খাইরুলওয়ালা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রায়ে মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের কুদরত উল্লার দুই ছেলে ওমর নাসির সাজু (৩২) ও ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার তোফায়ের আহমদের ছেলে মো. সৌরভ (২৭)।
যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার অন্তপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), মফিল উল্লার ছেলে কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও প্রয়াত মোহাম্মদ উল্লার ছেলে হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)।
রায় ঘোষণার সময় মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩ মার্চ মাইজদী বাজারের পুরাতন কলেজ পুকুরে আসামি সৌরভ একটি কুকুর গোসল করাতে যান। এ সময় সৌরভ অনুমতি না নিয়ে স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের শ্যাম্পো কুকুরের গায়ে মাখেন।
আনোয়ার এতে বাধা দিলে সৌরভ তাকে মারধর করেন। এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় পুরাতন কলেজ রোডে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিসে আনোয়ারের বন্ধু নিহত রাজিব, ওয়াসিম ও ইয়াসিন সৌরভের কার্যকলাপের প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাজু, সৌরভ ও সুলতান এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদেরও মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহত রাজিবের মা কামরুন নাহার বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার ৮ আসামির মধ্যে ফিরোজ আলম বাপ্পী ছাড়া বাকিরা পলাতক রয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাফাক্কার হোসেন মো. খাইরুলওয়ালা। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন আহম্মদ এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান।