বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে আইয়ুব বাচ্চুর নাম একটি অধ্যায়। আজ এই কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৬৫ বছরে পা দিতেন।
আইয়ুব বাচ্চুর গান থেমে থাকেনি, তার গিটার এবং সুরও থামেনি। ‘এখন অনেক রাত’, ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’ ও ‘রুপালি গিটার’—এমন অসংখ্য গান বাংলা সংগীতের শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একজন পূর্ণাঙ্গ সংগীতশিল্পী। গানের কথা, সুর, কণ্ঠ ও গিটার—সবকিছু একত্রিত করে তিনি তৈরি করেছিলেন একটি আলাদা সংগীতভুবন। মঞ্চে তার উপস্থিতি দর্শকদের জন্য ছিল এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা।
১৯৯১ সালে এলআরবি গঠন করে আইয়ুব বাচ্চু সংগীতজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেন। রক সংগীতকে বাংলাদেশের মূলধারার শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে এলআরবির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
আইয়ুব বাচ্চুর গান মানুষের পরিচিত অনুভূতিগুলোকে অসাধারণ সহজতায় গানে রূপ দিতে পারতো। ‘সেই তুমি’তে হারানোর বেদনা, ‘এখন অনেক রাত’-এ নিঃসঙ্গতা এবং ‘রুপালি গিটার’-এ শিল্পীর নিজের জীবন ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে।
২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর আইয়ুব বাচ্চু না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুর পরও তার গান রেডিও ও ইউটিউবে বাজছে, নতুন প্রজন্ম গিটারে তার গান শেখে।
আজ তার জন্মদিনে প্রশ্ন হচ্ছে, আইয়ুব বাচ্চু আমাদের সংগীতে কতটা জায়গা তৈরি করে গেছেন। তরুণদের হাতে গিটার, পুরোনো গানের প্লেলিস্ট এবং কনসার্টে দর্শকের সম্মিলিত কণ্ঠে তার উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়।
আইয়ুব বাচ্চু নেই, তবে তার গান, গিটার ও সুর আজও আমাদের হৃদয়ে জীবন্ত।