সৌদি আরবের রিয়াদে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত নাটোরের সাব্বির ও শামীমের পরিবার শোকে কাতর। এই শোকের মাঝে তাদের মাথায় রয়েছে ঋণের বোঝা, যা তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
সাব্বিরের পরিবার জানায়, তিনি তিন বছর আগে ভাগ্য বদলানোর আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন এবং তার উপার্জন দিয়ে ধার-দেনা পরিশোধ করছিলেন। বর্তমানে তার প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। সাব্বিরের বাবা জানান, “আমার ছেলে ঋণ করে বিদেশ গিয়েছিল, যে বাপ-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে।”
নিহত শামীম হোসেনও একই কারণে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তার পরিবার ৯ আগস্ট জানতে পারে যে, আগুনে দগ্ধ হয়ে শামীম মারা গেছেন। শামীমের স্ত্রী জানান, “আমার কোনো সম্পদ নাই যে, সেটা দিয়ে ঋণ শোধ করব।”
শামীমের বাবা জানান, তিনি নিজেদের জমি বিক্রি করে এবং আরও ৫-৬ লাখ টাকা ঋণ করে শামীমকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। খাজুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেন বলেন, “নিহতদের লাশ যেন অতি দ্রুততার ভিত্তিতে দেশে এনে তাদের বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।”
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লেগে ১৬ বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।