বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি বাড়িতে ‘বোমা’ বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হনুফা বেগম (৪৫) মারা গেছেন। তিনি ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত হনুফা বেগম ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, হনুফার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল, যার কারণে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় দগ্ধ অন্যদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী ইতি আক্তারের শরীরে ২ শতাংশ এবং ১৫ বছর বয়সী ফাহিমের শরীরে ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। ইতি আক্তার কম দগ্ধ হওয়ায় চিকিৎসা শেষে তাকে ছুটি দেয়া হয়েছে, তবে ফাহিমকে জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৪ আগস্ট সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে ঘটনার সময় বাড়ির পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। পরিবারের সদস্য জামাল হোসেন জানান, সকালে ৭টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে তার মা, বোন ও ভাগনের শরীরে আগুন ধরে যায়।
প্রাণ বাঁচাতে তারা পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন। প্রথমে আহতদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। জামাল হোসেন আরও জানান, বালুভর্তি বস্তার ভেতরে বিস্ফোরক বস্তু রেখেছিল, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।