নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি লবণবোঝাই বাল্কহেড ডুবিতে মো. সাবের নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভাসান চরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাবের চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকল বাহার ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং তিনি ডুবে যাওয়া বাল্কহেডের বাবুর্চি ছিলেন। দুর্ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মো. ফারুক মাঝি (৪১), দেলোয়ার হোসেন (২৮), জাফর উল্যাহ (২৬), তারেক হোসেন (২৩), লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার মো. মজিব (২২), চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছানোয়া (৫০), নুরুল আজম (২৮) ও খুলনার সবুর উদ্দিন (৬৮) অন্তর্ভুক্ত।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের জানান, বুধবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রামের ১২ নম্বর ঘাট থেকে এমভি তানিম নামে বাল্কহেডটি লবণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিল। পথে হাতিয়া-সন্দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় বাল্কহেডটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। সাগর উত্তাল থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাল্কহেডটি ডুবে যায়।
এ ঘটনার পর একটি ফিশিং বোটে ৮ জনকে উদ্ধার করে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে সাবেরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাল্কহেডটি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে বলে জানান আব্দুল কাদের।
এদিকে, একই দিনে হাতিয়ায় নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে তিনটি মাছধরার ট্রলারও ডুবে যায়। তবে এ সময় ট্রলারগুলোতে থাকা ৪৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রলারগুলো হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের নাসির মাঝি, জহির মাঝি ও জাহেদ মাঝির।
জহির মাঝির ট্রলারের মালিক নিশান চৌধুরী জানান, সকালে ঝড়ো বাতাসের কারণে ট্রলারগুলো দুর্ঘটনায় পড়ে। পরে কাছাকাছি থাকা অন্যান্য ট্রলারের সহযোগিতায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের মাঝি-মাল্লারা তীরে উঠেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি ট্রলারের মধ্যে দুইটি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। নাসির মাঝির ট্রলারটি এখনো ভাসছে এবং উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, ট্রলার ডুবির ঘটনায় জেলে, মাঝিমাল্লা সবাইকে জীবিত উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।