বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলিতে শিশুদের উচ্চতার বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের লাখ লাখ শিশু তাদের স্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারছে না। এর পেছনে বংশগতির পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাস এবং সচেতনতার অভাবও রয়েছে।
শিশুদের লম্বা না হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টি বা স্টান্টিং। শিশুদের শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তাদের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি হয়। এছাড়া, সুষম খাবারের অভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অনেক শিশু প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুডের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, যা হাড় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলসের অভাব সৃষ্টি করে।
অরুচি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা শিশুদের খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রুচির ওষুধ খাওয়ানো বা ভিটামিন সিরাপ ব্যবহার করা সমস্যার সমাধান নয়। বরং, পেটের সমস্যা দূর না হলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
হরমোন ও ভিটামিন ডি-র অভাবও শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি থাকলে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
অভিভাবকদের একটি বড় ভুল হলো, তারা সাধারণত সন্তানের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন যখন সন্তান ১৪ বা ১৫ বছর পার করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সের পর মেয়েদের এবং ১৫ বছর বয়সের পর ছেলেদের উচ্চতা বৃদ্ধির সুযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
সন্তানের স্বাভাবিক উচ্চতা নিশ্চিত করতে কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। জন্মের পর সঠিক পুষ্টি, সূর্যালোকের অভ্যাস এবং নিয়মিত খেলাধুলা শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়া, প্রতি তিন মাস পর পর শিশুর উচ্চতা ও ওজন মেপে দেখা এবং পেটের যত্ন নেওয়া অত্যাবশ্যক।
সব শিশুই নিজস্ব গতিতে বেড়ে ওঠে। তবে সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেলে প্রতিটি শিশুই তার কাঙ্ক্ষিত উচ্চতা ও সুস্থ জীবন পেতে পারে।