জীবনের অষ্টম দশকে পা রাখার পর শরীরের দুর্বলতা, পেশির শক্তি কমে যাওয়া এবং স্মৃতিশক্তির ম্লান হওয়ার ধারণা সাধারণ। তবে, বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ধক্যে অসুস্থ হওয়া অনিবার্য নয়। বরং তিরিশের দশকে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে ৭০ থেকে ৯০ বছর বয়সেও সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক বাক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এজিং এর প্রধান নির্বাহী এরিক ভার্দিন জানান, জীবনযাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে বেশিরভাগ মানুষ ৯০ বা ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত সুস্থ থাকতে পারবেন। গবেষকদের মতে, তিরিশের দশকেই মানবদেহে বার্ধক্যের প্রথম পরিবর্তনগুলো সূক্ষ্মভাবে শুরু হয়।
মিনেসোটার মেয়ো ক্লিনিকের অধ্যাপক জোয়াও পাসোস বলেন, এই সময়েই দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তি গড়ে তোলা উচিত। বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পুষ্টি বিশেষজ্ঞ পল মর্গান উল্লেখ করেন, ৭০ বছর বয়সের পর ভারসাম্য হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই তিরিশের দশকে টেনিস, ব্যাডমিন্টন বা সাইক্লিংয়ের মতো খেলায় যুক্ত থেকে পায়ের পেশি শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন।
দাঁতের সুরক্ষা এবং অ্যালকোহল বর্জনের বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মাড়ির প্রদাহজনিত রোগ মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা স্মরণশক্তির লোপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই দাঁতের নিয়মিত যত্ন এবং মিষ্টি খাবার কমানো জরুরি।
ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরা বলেন, একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ওঠা মস্তিষ্কের সংকোচন রোধে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদরা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এবং সঠিক পুষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্তত ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার নিয়ম অনুসরণ শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
তিরিশের দশকে গড়ে তোলা সুশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত হাঁটাচলা বৃদ্ধ বয়সে শরীর ও মস্তিষ্ককে স্বাবলম্বী রাখতে সহায়তা করবে।