বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

জুলাইয়ে বিদ্যুৎ বিল ৪ গুণ বেড়েছে, গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ

জুলাই মাসে বিদ্যুৎ বিল ৪ গুণ বেড়েছে, গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

জুলাইয়ে বিদ্যুৎ বিল ৪ গুণ বেড়েছে, গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ

সারাদেশে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জের অভিযোগ বেড়ে গেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, জুলাই মাসে তাদের বিদ্যুৎ বিল জুন মাসের তুলনায় ৪ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইছেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।

জুন মাসের শুরুতে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১৭ শতাংশ বেড়ে গেলেও, মাস শেষে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ ওঠে। জুলাই মাসে এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এর আঞ্চলিক অফিসে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকরা বাড়তি বিলসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসছেন।

এক গ্রাহক জানান, তার মিটার থেকে ১৭০০ টাকা জমা দেওয়ার পরও বিলের ব্যালেন্স ১২১ টাকা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, "এখানে এসে বিভিন্ন টেবিল ঘুরেও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।" অন্য এক গ্রাহক জানান, রিচার্জ করার পরও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, এপ্রিল মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল ১৬শ থেকে ১৬শ ৫০ টাকা, কিন্তু মে মাসে তা ৩ হাজার ৮শ টাকা এবং জুন মাসে ৪ হাজার ৪২৫ টাকায় পৌঁছায়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জুলাই মাসে ২ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ গুণতে হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং থাকার পরও বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এক গ্রাহক বলেন, "এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে চূড়ান্ত মাত্রায়। জনজীবন অতিষ্ঠ।"

একজন গ্রাহক বলেন, "জুন মাসে আমি ৫০০-৫৫০ টাকা বিল দিয়েছি, কিন্তু জুলাইয়ে তা ২ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। এটাকে ভূতুড়ে বিল বলা হয়।" অন্য একজন জানান, জুলাই মাসে তার বিল ১৭০৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত বিল আদায় হতে পারে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছেন তারা। সিপিডি'র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "বিইআরসি স্ব-উদ্যোগে কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে স্যাম্পল ভিত্তিতে অডিট করতে পারে।"

বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং নির্দেশনা দেওয়ার জন্য একজন ন্যায়পাল নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিজ্ঞাপন