দুবাইফেরত এক যাত্রীর অভিনব কৌশলে স্বর্ণ চোরাচালান চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়। সংস্থাটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় তিন কোটি টাকার চোরাচালানের এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট নম্বর বিজি১৪৮-এ দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশি যাত্রী মোহাম্মদ তুসারকে (৩৩) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারিতে রাখা হয়। তার পাসপোর্ট নম্বর ইএল০১০২৯৭২ এবং স্থায়ী ঠিকানা দিঘলগাঁও, পিপুলিয়া বাজার, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সিআইআইডির তথ্যের ভিত্তিতে ডিজিএফআই, এনএসআই এবং কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে যৌথ নজরদারি পরিচালনা করা হয়। কাস্টমস হলে দেহ তল্লাশির সময় অভিযুক্তের অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো স্বর্ণের পেস্ট ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
সিআইআইডি জানায়, অভিযানে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১৪০০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের পেস্ট এবং ৫টি স্বর্ণের চুড়িসহ প্রায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার। মোট প্রায় ১৫০০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি টাকা।
অভিযানের সময় আটককৃত স্বর্ণের সঙ্গে অভিযুক্তের পাসপোর্ট, একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং বোর্ডিং পাসও জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এড়িয়ে স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে স্বর্ণকে পেস্টে রূপান্তর করে অন্তর্বাসের ভেতরে লুকিয়ে আনা হয়েছিল।
তবে গোয়েন্দা তথ্য ও সমন্বিত অভিযানের ফলে এই চোরাচালানের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিআইআইডি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণসহ অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।