সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দাম নির্ধারণের তথ্য

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দাম নির্ধারণের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দাম নির্ধারণের তথ্য

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। এটি চালু হলে বাংলাদেশ হবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ৩৩তম দেশ।

প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ঢোকানোর কাজ গত মে মাসে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। প্রথম ধাপে ২ হাজার ৪৬টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৯০টি পরীক্ষায় সফল হয়েছে রূপপুর। দ্বিতীয় ধাপের শেষ ১৮টি অতি সংবেদনশীল পরীক্ষা বাকি রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করলেও বাস্তবতা বলছে, পরীক্ষামূলক সরবরাহ ৭ থেকে ৮ মাস চলতে পারে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।

রাশিয়ার সাথে ২০১৭ সালে সই করা চুক্তি অনুযায়ী ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়া ফেরত নেবে। এই বর্জ্য রূপপুরে ১০ বছর পর্যন্ত নিরাপদে রাখা হবে, পরে তা রাশিয়ায় পাঠানো হবে।

রূপপুরে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে। প্রতি দেড় বছর পরপর নতুন জ্বালানি প্রয়োজন হবে। প্রথম ৩ বছরের জন্য জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

প্রকল্পের খরচ ও দেরির কারণ হিসেবে করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রকল্পের খরচ প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিদ্যুতের চূড়ান্ত দাম এখনও নির্ধারণ হয়নি, তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুতের দাম অন্যান্য উৎসের তুলনায় বেশি হবে না।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি জানিয়েছে, রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় গ্রিড প্রস্তুত। তবে গ্যাস সংকটের কারণে স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিত করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি।

বিজ্ঞাপন