বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করেছে, যা বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু নীতি সুদহার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।
বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো জরুরি। তারা সুশাসন ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম সাধারণ মানুষকে দিশেহারা করে তুলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত দুই বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। নীতি সুদহার ১০ শতাংশে নেওয়ার ফলে ঋণের সুদ বেড়ে যায় এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যায়। हालाँकि, সম্প্রতি নীতি সুদহার কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “ব্যাংক ঋণের হার শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। এই বাধাকে দূর করতে হবে।” তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, খেলাপি ঋণের উচ্চ চাপ এবং আমানতের উচ্চ সুদের কারণে ঋণের সুদ দ্রুত কমানো কঠিন হতে পারে।
ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিক সমস্যাগুলো আমাদের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।” বিআইবিএম’র সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, “এটি সম্ভব নয় যে ব্যবসাকে বড় করে লাভজনক করা যাবে।”
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি সুদহার কমানো হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মানুষের প্রকৃত আয় কমবে। ফলে ভোগব্যয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সবকিছুই চাপে পড়বে।