রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাস দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত ছয় মাসে পাঁচ শতাধিক মামলায় কয়েক হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও অপরাধের হার কমছে না। পুলিশ জানায়, জামিনে বের হয়ে আসামিরা পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতি জটিল করছে।
মোহাম্মদপুরে মাদকের সহজলভ্যতা অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলেন, সন্ত্রাসের মূল উৎসগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। গত ১২ এপ্রিল এলেক্স গ্রুপের প্রধান ইমনের উপর হামলার ঘটনা এবং গত ১ জুন দুই নারীর ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
মোহাম্মদপুর থানায় গত ছয় মাসে ৫৩০টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে র্যাবের হাতে ৪১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে জামিনে আসা আসামিরা পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করার আহ্বান জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, 'আমরা চাই ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং এবং মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হোক।' তিনি আরও বলেন, মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের জামিন না দেওয়ার জন্য আদালতে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি জুয়েল রানা বলেন, মোহাম্মদপুরে সব ঘটনার রহস্য উন্মোচন এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, প্রশ্রয়দাতাদের কারণে জামিন পাওয়া সহজ হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, 'জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন কিংবা বিচার বিভাগের দুর্বলতা থাকতে পারে।'
সন্ত্রাসীদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসাজশের কারণে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাস কমাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি।