শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

লুটের ১৩শ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, ৭০০ বন্দি অধরা

লুটের ১৩শ অস্ত্র ও ৭০০ বন্দি অধরা, উদ্বেগ বাড়ছে দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে।

লুটের ১৩শ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, ৭০০ বন্দি অধরা

দুই বছর আগে সংঘটিত লুটের ঘটনায় ১৩শর বেশি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। একইসঙ্গে, কারাগার থেকে পালানো প্রায় ৭০০ বন্দিও এখনও অধরা রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে এই অস্ত্র ও পলাতক আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়টি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ বিদেশে চলে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় না আসলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ৭৬টি মামলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৯৪৭টি।

এই সাত মাসে সারা দেশে ১২৩টি গুলির ঘটনায় ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া ১ হাজার ৩১১টি অস্ত্রের মধ্যে চায়নিজ রাইফেল ১০৯টি ও ৩০টি এসএমজি রয়েছে। এছাড়া, উদ্ধার হয়নি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১২৫টি গুলি।

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো ২ হাজার ২৪৭ জনের মধ্যে এখনও ৬৯০ জন পলাতক রয়েছে। ১৬৬ জনের কোন নথি নেই এবং তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, যেখানে ভাড়াটে খুনি, চরমপন্থি ও জলদস্যুরা জড়িত। পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি ধরতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক সদস্যরা জানিয়েছেন, বাহিনীগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অপরাধ বিশ্লেষক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, পেশাগত সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, যা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। সাবেক র‍্যাবপ্রধান এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে, যা একটি গুরুতর হুমকি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সারা দেশে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ১০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন