টানা দুই সপ্তাহের সামরিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থগিত করার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত করতে সহায়ক হতে পারে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.৯৬ ডলার বা ৪.১ শতাংশ কমে ৯২.৮২ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এটি কিছু সময়ের জন্য ৯০ ডলারের নিচেও নেমেছিল।
একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪.০২ ডলার বা ৪.৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.২৯ ডলারে দাঁড়ায়। টানা তিন সপ্তাহ দাম বাড়ার পর, দুই ধরনের তেলের দামই এখন প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং সংঘাত লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় সৌদি আরব থেকে বাব আল-মানদেব প্রণালি হয়ে এশিয়ায় তেল রফতানি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। এ কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ রোববার (২৬ জুলাই) জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার ফলে উত্তেজনা কমার প্রথম বাস্তব ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা সোমবারের শুরুতে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পেছনে কাজ করেছে।