মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে শান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ইরানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও, দেশটি ভেঙে পড়েনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, অঞ্চলটি এখন এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে রয়েছে, যেখানে কূটনীতি ও পারমাণবিক ঝুঁকি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, টানা ৪০ দিনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করলেও তাদের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বা সামরিক হামলা, কোনোটিই তেহরানকে নত করতে পারেনি। ফলে, ওয়াশিংটনকে বাধ্য হয়ে কূটনীতির পথে ফিরে আসতে হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, বড় শক্তিগুলোকেও অনেক সময় পিছু হটতে হয়। আফগানিস্তান ও ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের সময়ও একই বিষয় দেখা গেছে।
ইতিহাস বলে, বিংশ শতাব্দীর বহু যুদ্ধ সাম্রাজ্য ও রাষ্ট্রের পতন ঘটিয়েছে। তবে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত দেখাচ্ছে যে কূটনীতি ও সমঝোতার পথ এখনও কার্যকর। মূল বিরোধ না মিটলেও, আলোচনার মাধ্যমে অন্তত সাময়িক সমাধান সম্ভব হয়েছে।
যুদ্ধের ফল নির্ধারণে ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও তেহরান নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোও ইরানকে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধের ঢাল হলেও, সব সমস্যার সমাধান নয়। তথ্যযুদ্ধ ও এআই প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা ইরানের মনোবল ভাঙতে পারেনি। যুদ্ধ শুরু করার চেয়ে তা থেকে বেরিয়ে আসা বেশি কঠিন।
তবে, ইরান প্রথম ধাক্কা সামলাতে পারলেও মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো সময় নতুন সংঘাত শুরু হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই সংঘাত হতে পারে আরও জটিল ও বিপজ্জনক।