বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন দেশটির জাতীয় ফুটবল দলকে সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি আর্জেন্টিনাকে ঐতিহাসিকভাবে 'বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ' হিসেবে উল্লেখ করেন।
৭৭ বছর বয়সী এই অভিনেতা রোববার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে এসইসি ব্ল্যাক অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ছবি প্রকাশ পায়। ছবিতে তার অভিনীত 'জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড' চলচ্চিত্রের স্টিফেন চরিত্রকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বর্ণবাদের প্রতি একটি প্রতীকী মন্তব্য হিসেবে ধরা হয়।
পোস্টে বলা হয়, 'আপনি যদি একজন কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন, তাহলে আমার কাছে আপনাকে এমনই মনে হয়।' এই মন্তব্যের পর অনেকেই জ্যাকসনের সমালোচনা করেছেন, দাবি করে যে আর্জেন্টিনার ইতিহাস এতটা একপাক্ষিক নয়।
আর্জেন্টিনার ইতিহাসে ১৮১৩ সালের 'ফ্রি উম্ব ল' আইন ও অভিবাসীবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে অনেকেই জ্যাকসনের মন্তব্যকে অযৌক্তিক বলছেন।
বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা অনেকের কাছে 'ভিলেন' হিসেবে পরিচিতি পায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন লাইভস্ট্রিমারকে উদ্দেশ্য করে 'চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদো' বলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
এদিকে, আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সান মার্টিন-এর সমাজবিজ্ঞানী ইভান শুলিয়াকের মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ভিত্তিতে পুরো দেশকে বর্ণবাদী আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। তিনি এএফপিকে বলেন, 'যেসব দেশ নিজেরাই বর্ণবাদের ইতিহাস পুরোপুরি মোকাবিলা করতে পারেনি, অনেক সময় তারাই এমন সাধারণীকরণ করে।'
ফাইনাল শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। অভিযোগ রয়েছে, আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন, যা পরবর্তীতে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা সৃষ্টি করে। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচ শেষে বলেন, 'জয়ে যেমন উদার থাকতে হয়, পরাজয়েও তেমনই আচরণ করা উচিত।'