মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিমান হামলা আরও জোরদারের হুমকি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অতীতের ব্যর্থ কৌশলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক চাপ বাড়ানোর মাধ্যমে তেহরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে না; বরং এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হচ্ছে, হরমুজে ইরানের প্রভাব কমানো এবং নিজেদের শর্তে তেহরানকে আলোচনায় ফেরানো। এই প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যম ও রয়টার্সের তথ্যমতে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ সেতু, খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল ও ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাসহ আরও বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করবে।
মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন পানিকফ বলেন, নতুন হামলাগুলি ইরানের অবস্থান বদলাবে না বরং তেহরান আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানই চায়, তবে প্রয়োজনে সামরিক চাপ আরও বাড়ানো হবে। বিশ্লেষকদের মতে, স্থল অভিযান ছাড়া শুধু বিমান হামলায় ইরানের নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা কঠিন।
এদিকে, হরমুজে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মোবাইল জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও মাইন পেতে চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের।
এজন্য সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা সীমিত হতে পারে। চলমান সংঘাত দীর্ঘ হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।