হুতিদের অবরোধের কারণে বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দেশটির তেল রপ্তানির আয় কমানোর পাশাপাশি ‘ভিশন ২০৩০’-এর মেগা প্রকল্প ও ২০৩৪ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী গত ১৩ জুলাই হামলা চালানোর পর হুতিরা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর ফলস্বরূপ, সোমবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে হুতিরা।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে সংকট চলায় বাব আল-মান্দেব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব লোহিত সাগরের এই রুটটি ব্যবহার করে তেল ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করছে। চ্যাথাম হাউসের গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, ‘হুতিদের এই ঘোষণা ২০২২ সালে সৌদির সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি শেষ করার ইঙ্গিত।’
তিনি আরও জানান, ‘এ পদক্ষেপের ফলে সৌদি জাহাজের ওপর হামলার লক্ষ্য হতে পারে। এতে শুধু সৌদি নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ বাব আল-মান্দেবে সৌদি জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে দেশটির অর্থনীতিতে বিশাল ধাক্কা লাগবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ জ্বালানি তেল বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়, এবং হরমুজ দিয়ে যায় প্রায় ২০ শতাংশ তেল। এই দুটি সমুদ্রপথ বন্ধ হলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশই ব্যাহত হবে।