সিরিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন ‘সিজার নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে লবিং করেছেন দেশটির ইহুদি নেতারা। সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থি নেতৃত্ব নিয়ে ইসরায়েল সতর্ক অবস্থানে থাকলেও, সিরিয়ান-আমেরিকান ইহুদি সম্প্রদায়ের কয়েকজন নেতা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে প্রচারণা চালান।
জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার বিরোধী রাজনীতিক মুআজ মুস্তাফার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিরিয়ান ইহুদি নেতা হেনরি হামরা এবং তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। ২০১৯ সালে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরে কার্যকর হওয়া সিজার সিরিয়া সিভিলিয়ান প্রটেকশন অ্যাক্টের মাধ্যমে আসাদ সরকারের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। মুস্তাফার নেতৃত্বাধীন সিরিয়া ইমার্জেন্সি টাস্ক ফোর্স (এসইটিএফ) দাবি করেছে, আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত নিষেধাজ্ঞা নতুন সিরীয় সরকারের ওপরও চাপ তৈরি করছে এবং দেশটির পুনর্গঠনে বাধা দিচ্ছে।
হেনরি হামরা সিরিয়ায় ফেরার উদ্যোগ নেন। তার বাবা ইউসুফ হামরা দামেস্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন। কয়েক দশক আগে সিরিয়া ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়া হামরা পরিবার নতুন পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে অবস্থান নেয়। ২০২৫ সালে সিরিয়ান ও আমেরিকান ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে একাধিক প্রতিনিধি দল সিরিয়া সফর করে।
তারা দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দামেস্কের ঐতিহাসিক ইহুদি স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন। হেনরি হামরার মতে, সিরিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের ভূমিকা ছাড়া সিজার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এত সহজ হতো না। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনে (এনডিএএ) স্বাক্ষর করার মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় সিজার নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন।
এদিকে, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইসরায়েলের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নতুন সরকার ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, এর আগে, সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক দাবি করছেন, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের অতীত পুরোপুরি উপেক্ষা করা উচিত নয়। তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে নির্দিষ্ট শর্ত ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষের ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর সিরিয়ার পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা জরুরি।
সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সিরিয়ান প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই মতপার্থক্য এখন দেশটির নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।