ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে, গত ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন)। আহতদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে আবারও দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, '২০২৬ সালের ৭ জুলাই থেকে আহতদের বেশিরভাগই মৃদু কনকাশন বা মাথায় আঘাতজনিত সাময়িক মস্তিষ্কের আঘাতে ভুগেছেন।'
পার্নেলের মন্তব্য দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আসে, যেখানে দাবি করা হয় যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে আহত হওয়া বহু মার্কিন সেনার তথ্য পেন্টাগন প্রকাশ করেনি।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে পেন্টাগন ধীরগতি দেখিয়েছে। তবে পেন্টাগনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব তথ্য প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে।
পার্নেল বলেন, 'অপ্রাণঘাতী হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো মানে সেই তথ্য সরাসরি আমাদের প্রতিপক্ষের কাছেও পৌঁছে দেওয়া। এতে দ্রুত তথ্যের সুযোগ নিয়ে তারা আরও সেনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।'
বর্তমানে মার্কিন সেনাদের হতাহত সংক্রান্ত তথ্যের প্রধান সরকারি উৎস হিসেবে রয়েছে ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিসিএএস)। তবে তথ্যভান্ডার হালনাগাদে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর সোমবার পর্যন্ত ডিসিএএসে একজন নতুন মার্কিন সেনার মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হয়েছে। তিনি হলেন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারচালক কমান্ডার গ্যাব্রিয়েল এডওয়ার্ডস, যিনি ১ জুলাই আরব সাগরে এক দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হয়ে পরে নিহত বলে নিশ্চিত করা হয়।
সোমবার পর্যন্ত ডিসিএএসে নতুন করে আহত ১৪ সেনার তথ্য ছিল। এর মধ্যে ১৩ জুলাইয়ের হালনাগাদে বিমানবাহিনীর একজন সদস্যের আহত হওয়ার তথ্য যোগ করা হয়।