লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর মুখে বেত ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে এই ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি নির্যাতনের দৃশ্য ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ভিডিওর শিরোনামে তিনি লিখেছেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’ বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রায় আড়াই মাস আগে ধারণ করা এই ভিডিওটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেন উত্তর চরআবাবিলের বাংলাবাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক এবং তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে আড়াই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি রায়পুরে নেই। মাদ্রাসাটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা দেখে অনেকেই শঙ্কিত হয়েছেন। শিশুটির আতঙ্কিত কান্না আরও বেড়ে যায়।
অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেন ফেসবুকে এক ভিডিওতে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম।’ তিনি আরও জানান, ‘আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি।’
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ জানিয়েছেন, ইমরান হোসেনকে প্রায় আড়াই মাস আগে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইমরান টিকটকে ভিডিও বানাতেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ করতেন।’