লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ২৭ বছর বয়সী গৃহবধূ সামিয়া আক্তারের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ভোররাতে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখে অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা পালিয়ে যান।
সামিয়া লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর বাড়ির দেলোয়ার হোসেন বতার বড় মেয়ে। হাফিজ মোল্লা, যিনি একই এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগে ছিল। হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হাফিজ মোল্লা এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং নারীদের উত্যক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। সামিয়াকে সম্প্রতি মারধর করে গুরুতর আহত করার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানাকে অবহিত করলে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে সামিয়ার মরদেহ তার বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়েটা খুব ভালো ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই হাফিজ তার ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’