উজানের ঢল এবং নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে নদীভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রংপুর-লালমনিরহাট সীমান্তের তিস্তা নদীর ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও সড়ক বিলীন হচ্ছে।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে রংপুর ও লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী তালপট্টি এলাকায় ভাঙন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সম্প্রতি নির্মিত সড়কটি এখন বিলীনের পথে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তীর, যার ফলে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উত্তরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জন্য চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ভাঙনের কারণে ঘর-বাড়ি হারিয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারালেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। নদীপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো মানুষ।
শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামে গত এক সপ্তাহে মৃগী নদীর ভাঙনে অন্তত ৩৭টি বাড়ি ও অর্ধশত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও চার শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদ, কমিউনিটি মেডিকেল সেন্টারসহ গ্রামের একমাত্র কাঁচা সড়কের বাকি অংশ।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।