খাগড়াছড়ির মাইনী ও চেঙ্গী নদীতে পাহাড়ি ঢলে আসা বালু ও পলিমাটি জমে নাব্য সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। এর ফলে অল্প বৃষ্টিতেই নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার কবলে পড়ছে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, বন উজার এবং জুম চাষের কারণে পাহাড়ের মাটি ক্ষয়ে নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সংকট সমাধানে দ্রুত নদী খননসহ স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আসা মাইনী নদী খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও লংগদু হয়ে কাপ্তাই লেকে মিশেছে। সময়ের সাথে সাথে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গভীরতা কমে আসছে, ফলে বৃষ্টির পর নদী তলিয়ে যাচ্ছে।
চলতি মাসে চার দিনের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাকে বিপর্যস্ত করেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পলি ও বালুতে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে তারা দুর্দশার শিকার হচ্ছেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা বলেন, “পাহাড়ের মাটি বালুময়। যখন বন ন্যাড়া করে সেখানে চাষ করা হয়, তখন প্রচুর মাটি নদীতে গিয়ে জমা হচ্ছে।” তিনি পাহাড়ে কৃষি কাজ করা না করে সমতল ভূমিতে করার পরামর্শ দেন।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, বন্যা প্রতিরোধে মাইনী ও চেঙ্গী নদীর খনন কাজ দ্রুত শুরু হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বৃষ্টি কমলে চর অপসারণ ও নদী খনন শুরু হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীর ২১টি পয়েন্টে ৪ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।