টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাজেক-খাগড়াছড়ি সড়কের দীঘিনালা-কবাখালি অংশ এবং বাঘাইহাট, মাচালং ও সীমানাছড়া এলাকায় চারটি পয়েন্টে সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সাজেকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
এখনো সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের ফেরার বিষয়টি অনিশ্চিত। সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ যদি বৃষ্টিপাত না হয়, তবে বিকেলের দিকে পর্যটকদের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, দীঘিনালার মেরুং এলাকায় প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালার উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে, ২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দী প্রায় আট হাজার মানুষকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সাজেক রির্সোট কটেজ মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক বলেন, ‘মাচালং বাজারের ব্রিজ-কানেক্টিং পয়েন্টে এখনো পানি ৭ ফিটের ওপরে। গাড়ি চলাচলের অবস্থা নেই।’ তিনি জানান, মাচালংয়ের পানি নেমে গেলে বিকালে পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, ‘২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩০০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’