খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। নতুন করে পানিবন্দী হয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। বুধবার (৮ জুলাই) মাইনী, চেঙ্গী ও ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দীঘিনালা এবং জেলা সদরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
দীঘিনালা-সাজেক ও লংগদু সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সাথে জেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর ফলে অন্তত ৪৬১ জন পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন।
দীঘিনালা উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। মাইনী নদীর পানি বেড়ে কবাখালী ও মেরুংয়ের নিচু এলাকা এবং মূল সড়ক প্লাবিত হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীঘিনালা ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
মুসলিমপাড়া, মেহেদীবাগ, গঞ্জপাড়া, বটতলী, পেরাছড়া, লার্মাপাড়া ও দ্রোণাচার্য পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে প্লাবিত হয়ে কয়েকশত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নেন্সিবাজার, মোল্লাপাড়া, কলাবাগান, শালবন ও মোহাম্মদপুরের সহস্রাধিক পরিবার চরম পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন।
উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়া শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে এসব আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চাল-ডালসহ রান্না করা গরম খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।