সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

বন্যা ও পাহাড়ি এলাকায় মানবিক সংকট: কারণ ও প্রভাব

সিলেট ও চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যার কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী, মরদেহ দাফনের জন্য শুকনো জমিও নেই।

বন্যা ও পাহাড়ি এলাকায় মানবিক সংকট: কারণ ও প্রভাব

দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ বর্তমানে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, মরদেহ দাফনের জন্য এক ফালি শুকনো জমিও পাওয়া যাচ্ছে না।

পাহাড়ি এলাকায় বন্যার প্রধান কারণ হলো ভৌগোলিক অবস্থান ও অতিবৃষ্টি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বৃষ্টিপাত ছিল অস্বাভাবিক। চট্টগ্রাম অঞ্চলে গত এক সপ্তাহে রেকর্ড ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার মধ্যে একদিনেই ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢলও এই বন্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সিলেট ও চট্টগ্রামের অধিকাংশ পাহাড়ি নদী ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়ের উজান থেকে এসেছে। ভারী বৃষ্টির ফলে ওই অঞ্চলের পানি বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়ে গ্রামগুলোকে প্লাবিত করছে।

বাংলাদেশের পাহাড় কাটা এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাহাড়ের গাছপালা বৃষ্টির পানি শোষণ করে এবং মাটিকে ধরে রাখে। কিন্তু পাহাড় কাটার ফলে মাটি আলগা হয়ে যায়, যা পাহাড়ধসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এখন পর্যন্ত, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যার কারণে ১৯ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতি ২৪৫ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যা মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছে।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ করা, নদীগুলোর ড্রেজিং করা এবং ভারতের সাথে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রয়োজন। দেশের এই দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের মানবিক দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন