চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ২ লাখ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল সড়কের আশপাশে ত্রাণ বিতরণ হলেও প্রান্তিক এলাকায় পৌঁছাচ্ছে না কিছুই।
সুপেয় পানি ও শিশুখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, সরল, শেখেরখিলসহ সমুদ্র উপকূলের ইউনিয়নগুলোতে বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। গত ৫ দিন ধরে অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না।
এছাড়া, ধানের গোলা, পুকুরের মাছসহ খাবারের উৎস ভেসে গেছে। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। সাতকানিয়ার নলুয়া, তেমুহনি, ঢেমশার মতো প্রান্তিক এলাকাতেও একই অবস্থা বিরাজমান।
চন্দনাইশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নও তলিয়ে গেছে। সরকারি কিংবা বেসরকারি ত্রাণ মূল সড়কের আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য হলেও প্রান্তিক এলাকার লোকজনের ভাগ্যে কিছুই জুটছে না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণের অভাব নিয়ে ক্ষুব্ধ। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারি যে ত্রাণ পাওয়া গেছে, তা একটি ইউনিয়নের জন্যও যথেষ্ট নয়।’
ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন দাবি করেছেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে ত্রাণ পৌঁছাতে সময় লাগছে। তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৩ উপজেলার বাইরে বোয়ালখালী, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর জন্যও প্রয়োজন আলাদা বরাদ্দ, বলছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।