বৃষ্টিপাত কমলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজারসহ বন্যাকবলিত ৭ জেলার নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে। প্রায় ৬ দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
প্রশাসন বানভাসিদের জন্য শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তার কথা জানিয়েছে, তবে বিতরণে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। শনিবারও বিভিন্ন জেলায় মাঝারি ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। চট্টগ্রামের ৭ উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রাম ডুবে গেছে। পানিবন্দি সাড়ে ৭ লাখ মানুষ।
পানিতে ঢুকে পড়ায় ঘরবাড়ির আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অনেক এলাকা। ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছে বন্যার্তরা। জেলার ৬৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন জানিয়েছেন, ‘যেসব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছায়নি সেখানে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বন্যার্তদের জন্য যথাযথ খাবার ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
কক্সবাজারে টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা। জেলার ১০ উপজেলার অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে। বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ১০ থেকে ১২ ফুট পানি জমে আছে। সড়ক, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির মেরুং ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে, যেখানে পানিবন্দি প্রায় ৫ হাজার মানুষ। অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় লোকজন নৌকায় চলাচল করছেন।
মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমলেও রাজনগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। মনু নদীর ভাঙনে ২৫ গ্রামে বানের পানি ঢুকে পড়েছে। হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।
সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা রয়েছে, জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।