রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর আগে ঋণের চাপ বৃদ্ধি

শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর আগে ঋণের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর আগে ঋণের চাপ বৃদ্ধি

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর আগেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচককে এ বছরের মধ্যে জাপান সরকারের কাছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা দিতে হবে, যা টার্মিনালের এক বছরের সম্ভাব্য আয়ের সমান।

সরকার ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি বাণিজ্যিকভাবে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ, যা থার্ড টার্মিনাল চালু হলে ১ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছাবে।

টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সরকার জাপানের কাছ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার জাপানের সাথে পরিচালনার চুক্তি বাতিল করেছিল। এখন সরকার চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক মাসের মধ্যে জাপানের সাথে পরিচালনা চুক্তি সম্পন্ন হবে। মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, "থার্ড টার্মিনালটাই প্রায়োরিটি বেসিসে আছে।"

বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, "চুক্তিটি রিভাইভ করা হয়েছে এবং দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।" বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদি আয় শুরু না হয়, তাহলে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প রাষ্ট্রের জন্য বিশাল আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

সিভিল অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান বলেন, "যে পেমেন্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেটা সুদ–আসলে বাড়ছে।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো আসতে দেরি হচ্ছে। চুক্তি হলে টার্মিনালের বন্দর উন্নয়ন ফি, লাউঞ্জ, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং কার পার্কিংয়ের ভাড়া থেকে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব থাকবে জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে।

এসব খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন