দেশে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৪ লাখ, এবং তাদের বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ফলে সরকারের খরচ বৃদ্ধি পাবে এক লাখ কোটি টাকার বেশি।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার, যার মধ্যে ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৬০ জন বেসরকারি খাতে কর্মরত। সরকারি চাকরিজীবীরা এ সংখ্যা মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শওকত হোসেন জানান, দশম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে তার বেতন কমপক্ষে ৩৮ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে তার বেতন প্রায় শতভাগ বাড়তে পারে, যা সংসার চালাতে তার জন্য স্বস্তির কারণ হবে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। মতিঝিলের একটি ট্রাভেল এজেন্সির ম্যানেজার ইনামুল হক বলেন, ১০ বছর ধরে চাকরি করে তার বেতন সামান্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে কঠিন হবে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে আয় বৈষম্য আরও প্রকট হবে। শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যবধান বাড়বে, কারণ সরকারি চাকরির বড় অংশ শহরকেন্দ্রিক।
অর্থনীতিবিদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী মন্তব্য করেন, 'বেতন বাড়ানোর প্রভাব পড়বে বাজারে, জীবনমানে ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এটি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।'
বিশেষজ্ঞরা জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের বছরে খরচ বাড়বে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। ফলে বেসরকারি খাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।