রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ১৪ মাসের নাতনির কফিনের উপস্থিতি

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ১৪ মাসের নাতনির কফিনের উপস্থিতি শোকের আবহ তৈরি করেছে।

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ১৪ মাসের নাতনির কফিনের উপস্থিতি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শনিবার তেহরানে শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার ইরানি সমবেত হয়েছেন।

খামেনির কফিনটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকায় মোড়ানো ছিল এবং এর ওপর তাঁর ব্যবহৃত কালো পাগড়ি রাখা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খামেনির পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মরদেহও, যার মধ্যে একটি ছোট কফিনে ছিল তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনির মরদেহ।

শুক্রবার খামেনির মরদেহ তেহরানে পৌঁছানোর পর, ইরান ছাড়াও ইরাকের বিভিন্ন শহরে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে শত শত সমর্থক শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে তেহরানে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, উপস্থিত জনতা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল ব্যানার বহন করছিলেন এবং ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ ও ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। ২৭ বছর বয়সী এক শোকগ্রস্ত ব্যক্তি বলেন, ‘আমি এখানে আমার প্রিয় নেতা আলী খামেনিকে বিদায় জানাতে এসেছি। এমন একটা দিন দেখতে হবে তা কখনো ভাবিনি।’

শুক্রবার ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গভীর শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অশ্রুসিক্ত অবস্থায় ছিলেন। শোক জানাতে আসা শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন আহমদ ওয়াহিদি, যিনি খামেনির সাথে একই হামলায় নিহত পূর্বসূরির স্থলাভিষিক্ত করে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

এই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা। খামেনির কফিন সোমবার পর্যন্ত তেহরানে থাকবে এবং সেখানে একটি শোক মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করবে। মঙ্গলবার এটি ধর্মীয় কেন্দ্র কোম-এ নিয়ে যাওয়া হবে এবং বুধবার ইরাকের পবিত্র শহরগুলো ঘুরে দেখার পর, বৃহস্পতিবার খামেনির নিজ শহর মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে।

বিজ্ঞাপন