জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। ফ্রান্সে অতিরিক্ত গরমজনিত কারণে ২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনের আগের সপ্তাহের তুলনায় মৃত্যুহার প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়ে গেছে। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানী প্যারিসে মৃত্যুহার ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ২৪ জুন, ২০২৬ তারিখে দেশটিতে ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যেখানে প্যারিসে তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং শহরজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
বেলজিয়ামে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে, এর মধ্যে ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ছিলেন ৫৩০ জন এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী ছিলেন ১৮০ জন। নেদারল্যান্ডসে গত সপ্তাহে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া, তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্স ও স্পেনে একের পর এক দাবানলের ঘটনা ঘটছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে, আগামী দিনগুলোতে ইউরোপে আরও চরম তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুনের ২০ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলা এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ছিল।
প্রচণ্ড গরমের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা ব্যাহত হয়, অবকাঠামোর ক্ষতি হয় এবং হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।