শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

খামেনির শোক সমাবেশে আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভের স্লোগান

খামেনির শোক সমাবেশে আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভের স্লোগান শোনা গেছে।

খামেনির শোক সমাবেশে আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভের স্লোগান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য তেহরানের মোসাল্লায় বিশাল শোক ও শ্রদ্ধা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আয়োজন শুরু হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

কফিন মোসাল্লা এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বিপুল জনসমাগম ঘটে। অংশগ্রহণকারীরা লাল পতাকা ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যা প্রতিশোধের আহ্বানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানও শোনা যায়।

শোক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি দেখা যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের স্পিকার এবং আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিনিধিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে খামেনির মরদেহ কফিনে স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। জনতার ভিড় কফিন ঘিরে ধর্মীয় শোকগাথা ও প্রার্থনায় অংশ নেয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ এই শোকযাত্রাকে ইরানের ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও জনসমর্থনের প্রদর্শন হিসেবে দেখছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই শোক কর্মসূচিতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। সরকার পরিবহন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করেছে বড় পরিসরে।

শোক অনুষ্ঠানের সময় রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে ইরান সতর্ক অবস্থান নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শোক আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থানেরও একটি প্রদর্শনী। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই শোকানুষ্ঠান ইরানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ব্যাপক জনসমাগম, আন্তর্জাতিক উপস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রদর্শন একসঙ্গে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন