বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধিতে ইসলামপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিতে ইসলামপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, কৃষকদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত।

যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধিতে ইসলামপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকের আবাদি ফসল, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে, ফলে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

গত কয়েক দিনের বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার সাপধরী, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়। এতে আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজি, পাটসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় ঋণ করে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক পানি বাড়ায় তাদের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, যমুনার বুকে চার ইউনিয়নে ২৫ হেক্টর জমির পাট, বীজতলা ও সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।

সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম প্রামানিক জানান, তার তিন বিঘা জমির পাট পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, "পানি দীর্ঘ দিন থাকলে পাট নষ্ট হয়ে যাবে।" একই গ্রামের রফিক মন্ডল জানান, তার ৪০ শতাংশ জমির সবজি কিছুটা তলিয়ে গেছে, যা আরও বৃদ্ধি পেলে পুরোপুরি তলিয়ে যাবে।

এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে, যা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান জানান, যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, "আরও ২ থেকে ৩ দিন পানি বাড়তে পারে। এতে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে এই পানি আবার খুব কম সময়ের মধ্যে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।"

বিজ্ঞাপন