সাম্প্রতিক বন্যায় খাগড়াছড়িতে ১,০৩১ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এতে আউশ, আমনের বীজতলা এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত হাজারের বেশি কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় কৃষিতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা। কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ ২,৭১০ মেট্রিক টন ফসলের সমান।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও পানছড়ি উপজেলা। জেলার ৮,১৩০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ১,০৩১ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৩৩ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ১৯৩ হেক্টর আংশিকভাবে নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাদের লাগানো সবজি ও ধানের চারা পানির নিচে চলে গেছে। একজন কৃষক বলেন, "১০ শতক জমিতে ঢেড়স, বরবটি, শসা ও কলমি শাক লাগিয়েছিলাম। সবগুলো পানির তলে চলে গেছে। এখন বাজারে বিক্রি করার জন্য কিছুই নেই।"
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, "যদি প্রণোদনা পাওয়া যায়, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণের ব্যবস্থা নেব।"
এছাড়া, বন্যায় মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ২৫১ লাখ টাকা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হয়েছে।